Header Ads

Header ADS

44th BCS written preparation

৪৪তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি নির্দেশনা

বিসিএস লিখিত: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

মোহাইমিনুল ময়, ৪০তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১ম স্থান অধিকারী।বিসিএস প্রিলিমিনারি পাসের পর লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। প্রিলিমিনারিতে যাঁরা উত্তীর্ণ হন, তাঁরাই লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ছয়টি বিষয়ের ওপর ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। এ ছাড়া টেকনিক্যাল ক্যাডারের জন্য আলাদা নিজস্ব বিষয়ে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিসিএস লিখিত প্রস্তুতির বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ তুলে ধরা হলো।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কৌশলী হলে অনেক ভালো নম্বর পাওয়া যায়। এতে তিন ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়ে থাকে। প্রশ্ন হয় ৩টি ধাপে।
১. ধারণাগত সমস্যা
২. পরীক্ষামূলক সমস্যা
৩. সমস্যা সমাধান

ধারণাগত সমস্যা

এই সেকশনে মোট ৪০ নম্বর। এখানে ১০টি উত্তর করতে হয়। ১০টি প্রশ্নের জন্য সময় পাবেন ৭০-৭২ মিনিট। এই অংশে বেশির ভাগই সংজ্ঞা (Definition) আসে। কিছু নির্দিষ্ট টপিকের উত্তর দিতে হবে। প্রাসঙ্গিক উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন, সরাসরি মূল প্রসঙ্গে চলে যাবেন এবং পরে ৩-৪টি অনুচ্ছেদের মধ্য দিয়ে মূল প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনাটি শেষ করবেন। অযথা বড় প্রশ্নের মতো ভূমিকা ও উপসংহার লিখবেন না। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো পড়বেন এবং সিলেবাস থেকে প্রতিটি অধ্যায়ের মূল বিষয় এবং তার অধীন সাব-টপিকগুলোর প্রতিটির বিষয়ে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করবেন। এই অংশে বর্তমান যে প্রশ্ন প্যাটার্ন, সেখানে ফিক্সড ইনফরমেশন থেকে প্রশ্ন আসার হার অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু নিজের কনসেপ্ট ক্লিয়ার রাখার জন্য এবং বিভিন্ন সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে উত্তর করার জন্য অনেক টপিক পড়তে হবে, যেগুলো হয়তো পরীক্ষায় আসার সম্ভাবনা কম।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিক:

আন্তর্জাতিক বিষয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে সংযোগ, আধুনিক রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের ধরন, সার্বভৌমত্ব, অরাষ্ট্রীয় অভিনেতা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, সরকার রিপ্রেজেন্টকারী দল ও সরকার প্রভাবমুক্ত দলের (NGOs) সম্পর্ক, ক্ষমতার ভারসাম্য, নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, ভূরাজনৈতিক, সন্ত্রাসবাদ।

প্রধান ভাবনা ও মতাদর্শ: জাতীয়তাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, উত্তর-আধুনিকতা, বিশ্বায়ন এবং নতুন বিশ্বব্যবস্থা, বৈদেশিক নীতি এবং কূটনীতির ধারণা, বৈদেশিক নীতিনির্ধারক, কূটনৈতিক কার্যাবলি, অনাক্রম্য এবং বিশেষাধিকার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মুক্তবাণিজ্য, সুরক্ষা, বৈদেশিক সাহায্য, ঋণসংকট, সরাসরি বিদেশ বিনিয়োগ (এফডিআই), আঞ্চলিকতা, আঞ্চলিকীকরণ, বৈশ্বিক দারিদ্র্য, পরিবেশগত সমস্যা চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু অভিযোজন, জলবায়ু ও কূটনীতি।

প্রাইমারি ভাইভা অভিজ্ঞতা ২০২২

পরীক্ষামূলক ইস্যু

এই অংশে ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫। তাই উত্তর একটু বড় করে পয়েন্ট আকারে লিখতে হবে। সময় পাবেন ৮০-৮৫ মিনিট। উত্তর অবশ্যই বিশ্লেষণধর্মী হতে হবে। প্রয়োজনীয় অংশে অবশ্যই ম্যাপ চার্ট ব্যবহার করতে হবে। এতে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। তবে ডেটা চার্টের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে যেন প্রশ্নের বিশ্লেষণ অংশটি একেবারে কমে না যায়। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ভূমিকা ও উপসংহার অবশ্যই দেবেন।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিক:

জাতিসংঘ এবং তার অঙ্গ, জাতিসংঘের গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা, জাতিসংঘের সংস্কার ও ভূমিকা, নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা এবং শান্তি-নির্মাণের কার্যাবলি, মানবাধিকার কর্মসূচি, পরিবেশগত কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং নারীর ক্ষমতায়ন প্রধান শক্তির বৈদেশিক সম্পর্ক: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, জাপান
ইত্যাদি। বৈশ্বিক উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠান: বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, জি-৭৭, ডব্লিউটিও, কিয়োটো প্রটোকল ইত্যাদি।
আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান: সার্ক, বিমসটেক, ইইউ, আসিয়ান, ন্যাটো, এপেক, ওআইসি, এইউ।
জিসিসি বিশ্বের প্রধান সমস্যা এবং সংঘাত: ফিলিস্তিন সমস্যা, আরব বসন্ত, কাশ্মীর ইস্যু, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, সিরিয়ার সংকট, পারমাণবিক সমস্যা এবং ইরান, আরব-ইসরায়েলের ইতিবাচক সম্পর্ক, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক বিরোধ, পারমাণবিক বিস্তার এবং অন্যান্য সমসাময়িক সমস্যা।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনামূলক আলোচনা, আঞ্চলিক সংহতি, পানিবিরোধ, সীমান্ত সমস্যা এবং সন্ত্রাস। আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশ: প্রধান অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।

সমস্যার সমাধান

এখানে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলা হবে। তার সমাধান নিয়ে লিখতে হবে। এই অংশে নম্বর থাকবে ১৫। সময় পাবেন ২৭-৩০ মিনিট। সমস্যাকে অতিরঞ্জিত না করে সমাধান দিতে হবে। সমস্যাকে বড় বা ছোট করা নয়। তাই সমাধানের দিকে নজর দেবেন। বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্তভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।
আবেগী বা নিজের ব্যক্তিগত মতাদর্শ, সমস্যা সমাধানের শেষে নিয়ে আসবেন না। পলিসি বা নীতিপত্রের ক্ষেত্রে অনেকগুলো ফরম্যাটই রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট একটি ফরম্যাটকে ভুল বা সঠিক বলা যাবে না। তবে এ ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত ফরম্যাটগুলো পরিহার করে সহজ ফরম্যাট ব্যবহার করবেন।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: কভিড-১৯, ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যনীতি, পোশাক খাত, স্বাধীনতার ৫০ বছর, ভিশন-২০৪১, রোহিঙ্গা ও পাশাপাশি পরীক্ষামূলক ইস্যুতে উল্লেখ করা টপিক।
অনুলিখন: আনিসুল ইসলাম নাঈম।

No comments

Powered by Blogger.